প্রিন্ট ভিউ
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা ও কৌশলগত ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ১৯তম ধাপের ব্যাপক ও বড় মাত্রার হামলা শুরু করেছে ইরান। দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমের বরাতে আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানের ইসলামি রেভলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল থেকে সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন অভিযান পরিচালনা করছে।
এই অভিযানে ইরান তাদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি উন্নত ও শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে বলে দাবি করেছে। আইআরজিসি জানিয়েছে, তাদের এই ধারাবাহিক হামলায় লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সংখ্যা ও নিখুঁত লক্ষ্যভেদের ক্ষমতা শত্রুপক্ষের ধারণাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
হামলার তীব্রতা এবং স্থায়িত্ব নিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে আইআরজিসির মুখপাত্র জেনারেল আলি মোহাম্মদ নাইয়িনি বলেন, ‘ইরানের এই প্রতিশোধমূলক হামলা আগের যেকোনো যুদ্ধের তুলনায় আরও বিধ্বংসী ও ধারাবাহিক হবে।’ তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, শত্রুদের জন্য সামনে আরও কঠিন সময় অপেক্ষা করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে মোতায়েন থাকা মার্কিন ঘাঁটি, বিমানবন্দর এবং ইসরায়েলি সামরিক অবকাঠামোকে নিশানা করে এই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো ছোড়া হচ্ছে। চলমান এই সংঘাত এখন পর্যন্ত প্রশমনের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না, বরং ইরানের পক্ষ থেকে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে চরম যুদ্ধের দামামা।
একই সময়ে সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে ইরানের জাতীয় পতাকা নামিয়ে সেখানে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে, যা দেশটির সংস্কৃতিতে গভীর শোক ও চরম প্রতিশোধের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এমন প্রতীকী পদক্ষেপ থেকে স্পষ্ট যে ইরান এই লড়াইকে দীর্ঘস্থায়ী রূপ দিতে প্রস্তুত।
মূলত গত কয়েক দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চালানো বিভিন্ন অভিযানের পাল্টা জবাব হিসেবেই তেহরান এই ১৯তম ধাপের হামলা শুরু করেছে। এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাণিজ্যিক কেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অঞ্চলগুলোতে ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এই বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের ফলে গোটা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। যেহেতু এই অঞ্চলের অনেক দেশ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও সামরিকভাবে ঘনিষ্ঠ, তাই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে সরবরাহ ব্যবস্থা এবং জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা চরম পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। আন্তর্জাতিক মহলের চোখ এখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে, যা নির্ধারণ করবে এই লড়াই কতদূর পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।