প্রকাশিত : শনিবার , ৩১ জানুয়ারী ২০২৬ , বিকাল ০৪:১৯।। প্রিন্ট এর তারিখঃ মঙ্গলবার , ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , সকাল ০৬:৩৭

সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা মূল্যের ইউরিয়া সার গেল কই?


বাংলাদেশ ব্যাংকের দুই অর্থ বছরের ইউরিয়ার পেমেন্টে বিবিএসের পার্থক্য ১১,৫৮১.০১২ কোটি টাকা, বিসিআইসির সাথে পার্থক্য ৬১০৭.৪৬ কোটি টাকা।

দেশের কৃষি খাতে সবচেয়ে বেশী প্রয়োজনীয় ইউরিয়া সার। বছরে মোট ২৭-২৮ লাখ মে.টন ইউরিয়া চাহিদার বিপরীতে বিসিআইসির অধীন কারখানাগুলোয় উৎপাদন হয়েছে মাত্র ৭-৮ লাখ মে. টন। বাকী ২০-২১ লাখ টন সার বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করে দেশের চাহিদা পূরণ করতে হয়। আপৎকালীন সময়ে চাহিদার জোগান দিতে ৮ লাখ টন ইউরিয়া সার সব সময় মজুত রাখতে হয়। দেশের একমাত্র ইউরিয়া সার আমদানিকারক সরকারি প্রতিষ্ঠান বিসিআইসি। 

বিসিআইসি ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরের প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অর্থ বছরে ইউরিয়া সারের আমদানি লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৭,৩৯,৭৪৯.৪৬ মে.টন, এর বিপরীতে আমদানি করা হয়েছে ২০,৭৪,৪৯৪ মে.টন, যার আমদানি মূল্য দেখানো হয়েছে ১২,১৮,৭.৯৬ কোটি টাকা। প্রতি মে.টন সারের মূল্য ছিল ৫৮৭৫১.৪৮ টাকা। ২০২৩-২৪ আর্থ বছরে প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অর্থ বছরে ইউরিয়া আমদানি করা হয়েছে ১৭,৪৭,৫৭১ মে.টন, এর আমদানি মূল্য ছিল ৬১,২৬,৫৩,৭৩৭.৪৫১ মার্কিন ডলার বা ৬৮০৩.১৩ কোটি টাকা (মা.ডলার মূল্য ১১১.০৪৩৬ হিসাব করে), প্রতি মে.টন সারের আমদানি মূল্য ছিল ৩৮৯২৯.০৬ টাকা। দুই অর্থ বছরে মোট ইউরিয়া আমদানি করা হয়েছে ৩৮২২০৬৫ মে.টন, আমদানি মূল্য ছিল ১৮৯৯১.০৯ কোটি টাকা।  

এদিকে, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস)  ২০২২-২৩ অর্থবছরের বৈদেশিক বাণিজ্য পরিসংখ্যানে এই অর্থ বছরে ২৩,৮৯,৪৭৮.২৩ মে.টন ইউরিয়া সার আমদানি দেখানো হয়েছে, এর আমদানি মূল্য দেখানো হয়েছে- ১৫,৩৬৪.৪৭ কোটি টাকা, প্রতি মে.টনের দাম ছিল ৬৪,৩০০ টাকা। 

২০২৩-২৪ অর্থ বছরের বিবিএসের আমদানি তথ্যে বলা হয়েছে, ইউরিয়া সার আমদানি হয়েছে ২১,৩৬,৮৫৪.৮৮৮ মে.টন, এর আমদানি মূল্য ছিল ৯,০৯৯.৮১ টাকা, প্রতি মে.টনের দাম ছিল ৪২,৫৮৫ টাকা। 

বিবিএসের তথ্যমতে, এই দুই অর্থ বছরে ইউরিয়া সার আমদানি করা হয়েছে ৪৫,২৬,৩৩৩.১১৮মে.টন। এর আমদানি মূল্য ছিল ২৪,৪৬৪.৬৪ কোটি টাকা। 

আপর দিকে,বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২২-২৩ অর্থ বছরে ইউরিয়া আমদানি পেমেন্ট দেখানো হয়েছে ৮,১৯৭.১৮ কোটি টাকা  বা ৮,৩৪,৪০৯ হাজার মা.ডলার, ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে ইউরিয়া আমদানি পেমেন্ট দেখানো হয়েছে ৪,৬৮৬.৪৪ কোটি টাকা বা ৪,২৪,৯২৫ হাজার মার্কিন ডলার। এই দুই অর্থ বছরে মোট পেমেন্ট দেখানো হয়েছে ১২,৮৮৩.৬২৮ কোটি টাকা। 

ইউরিয়া আমদানিতে বিবিএসের সাথে বিসিআইসির আমদানি পরিমাণে পার্থক্য ৭,০৪,২৬৮.১১৮ মে.টন । পণ্য মূল্যে পার্থক্য ৫,৪৭৩.৫৫ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের দুই অর্থ বছরের ইউরিয়ার পেমেন্টে বিবিএসের পার্থক্য ১১,৫৮১.০১২ কোটি টাকা, বিসিআইসির সাথে পার্থক্য ৬১০৭.৪৬ কোটি টাকা।

বিবিএস ও বিসিআইসির আমদানি তথ্যের পার্থক্য থাকায় এ বিষয়ে বিবিএসের সাথে যোগাযোগ করা হলে বিবিএসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা ডাটা সংগ্রহ করেছে এনবিআর ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে। তাদের প্রদত্ত ডাটাবেজে কোনো ভুল নেই। এদিকে বিসিআইসির তথ্য কর্মকর্তা ও জিএম করিমুন্নেছা জানিয়েছেন, তাদের প্রকাশিত ডাটা সঠিক। বিসিআইসির বার্ষিক প্রতিবেদনে প্রকাশিত ডাটায় কোনো ভুল নেই। 

দুই প্রতিষ্ঠানেরই দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা তাদের প্রকাশিত তথ্য সঠিক হিসাবে দাবি করেছেন। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অভিন্ন সময়ে একই পণ্যের দুই প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত ডাটায় যেহেতু ভিন্নতা রয়েছে, দুই প্রতিষ্ঠানের দুই ধরনের ডাটাবেজ একই সাথে সঠিক হতে পারে না। তারা আরো জানিয়েছেন, আমদানি কারক প্রতিষ্ঠান বিসিআইসির প্রকাশিত তথ্য সঠিক হলে বিবিএসের প্রকাশিত তথ্যে সঠিক হিসাবে গণ্য নয়, বিবিএসের প্রকাশিত তথ্য সঠিক হলে বিসিআইসির তথ্য সঠিক বলে গণ্য করার কোনো সুযোগ নেই।